1. techostadblog@gmail.com : Fit It : Fit It
  2. mak0akash@gmail.com : AL - AMIN KHAN : AL - AMIN KHAN
  3. admin@sangbadbangla.com : admin :
রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

নতুন ষড়যন্ত্রে শিপ্রা, ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’

Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০
  • ১০৫ বার পঠিত

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের সহকর্মী ছিলেন শিপ্রা দেবনাথ। হঠাৎ করেই তিনি ফেসবুক, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় টার্গেট হয়েছেন। তারা শিপ্রার ব্যক্তিগত চরিত্রহননের চেষ্টা করছেন। এটিকে ‘নতুন ষড়যন্ত্র’ বলে মনে করছে তার পরিবার।

যারা শিপ্রার বিরুদ্ধাচরণ করছেন তারা যে শুধু ভুয়া আইডি থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন, তা নয়। অনেকে নিজ আইডি থেকেও শিপ্রাকে আক্রমণ করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো কারো আচরণে মর্মাহত শিপ্রার পরিবার।

এদিকে মেজর সিনহার ‘জাস্ট গো’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে ছবি ও ভিডিও দিয়ে সমালোচনায় শিপ্রা ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ হয়ে পড়েছেন। শিপ্রা জানান, তিনি বুঝতে পারেননি যে সাধারণ মানুষের এমন প্রতিক্রিয়া হবে। তাই দ্রুতই তিনি সেই ভিডিও সরিয়ে নিয়েছেন।

শিপ্রার ছোট ভাই শুভজিৎ কুমার দেবনাথ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে তাকে ‘খারাপ’ বলে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে গত বুধবার শিপ্রা যখন জাস্ট গো ইউটিউব চ্যানেলে কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন, তখন থেকে খারাপ মানসিকতার কিছু মানুষের আক্রমণের শিকার হন।

তিনি বলেন, কেন এই সময় ওই ডকুমেন্টারির ভিডিও আপলোড করা হয়েছে, সেটার একটি কারণ রয়েছে। ঘটনার পর অনেকে ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে জাস্ট গো নাম দিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করে ইউটিউবে ছেড়ে দেয়। এটা প্রচার হওয়ার পর অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়। এ কারণে শিপ্রা তার কাছে থাকা কিছু ছবি ও ভিডিও ইউটিউবে ছাড়েন। সেই ছবি ও ভিডিওর কিছু কিছু গুগল ড্রাইভে ছিল।

অনেকে হয়তো মনে করেছে, ওই ডকুমেন্টারিতে সিনহা হত্যার বিচার চাইবেন শিপ্রা। চোখে জল থাকবে। কান্নাকাটি করে আবেগতাড়িত হবেন। ডকুমেন্টারি তৈরির ক্ষেত্রে সেটা শিপ্রা চাননি। তিনি সিনহার স্বপ্ন এই ডকুমেন্টারির মাধ্যমে কিছুটা হলেও বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছেন।

শুভজিৎ আরও বলেন, সিনহা ছিলেন প্রাণচঞ্চল। তার স্বপ্নের প্রকল্প ছিল জাস্ট গো। ওই ডকুমেন্টারিতে সিনহার মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়েছেন শিপ্রা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়তো অনেকেই তার হাসিমাখা মুখ ভালোভাবে নেয়নি। অনেকের আঘাতে শিপ্রা এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তার মা-বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, একজন পুলিশ সুপারও তার আইডি থেকে শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি পোস্ট করেছেন। এটা করার পেছনে অবশ্যই অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে। হঠাৎ কেন তারা শিপ্রার ব্যক্তিগত বিষয় সামনে আনবেন। সত্যকে আড়াল করে অন্য কিছু প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন তারা।

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় আইআইএসটিতে পড়াশোনা করছেন শুভজিৎ। তার বাবা সাবেক বিজিবি সদস্য। শুভজিৎ আরও জানান, কক্সবাজার যাওয়ার আগে শিপ্রা জানান, তিন মাসের মধ্যে তারা কাজটি শেষ করবেন। সম্ভব হলে আরও তাড়াতাড়ি শেষ করে ফিরে আসবেন।

শুভজিৎ জানান, কক্সবাজার থাকাকালে শিপ্রার সঙ্গে প্রায়ই কথা হতো। ঈদের দিন সকালে শিপ্রা জানান, ‘সিনহা ভাই মারা গেছেন। সিফাত কোথায় রয়েছে আমার জানা নেই। আমি খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। সিনহার ঘটনাসহ পুরো বিষয়টি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’ শুভজিৎ জানান, শিপ্রা জামিন পাওয়ার পরও কয়েক দফায় তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তার পাশে দাঁড়াতে কক্সবাজারে তাদের স্বজনরা গেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, একটি অসাধু মহল শিপ্রার ব্যক্তিগত বিষয় সামনে এনে আসল ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছে। তারা যেটা করছে, এটা সাইবার ক্রাইম। কেন, কারা এটা করে যাচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আরও বিশদ তদন্ত চলছে।

৩১ জুলাই টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে সিনহা নিহত হওয়ার পর ওই রাতেই নীলিমা রিসোর্টে অভিযান চালায় পুলিশ। রিসোর্টে অভিযানের ঘটনায় হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে শিপ্রা দেবনাথকে আসামি করে মামলার জব্দ তালিকায় দুটি ভোদকা, তিনটি ভ্যাট-৬৯ দেশি মদ, এক পুরিয়া গাঁজা ও পানির বোতলে এক লিটার দেশীয় চোলাই মদ দেখানো হয়েছে। এটাকেও সাজানো মামলা বলে মনে করছেন অনেকে। শিপ্রার পরিবার বলছে, ওই মামলাও একটা ষড়যন্ত্র ছিল। শিপ্রাকে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার দেখালেও তার সহকর্মী তাহসিম রিফাত নূরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পরে জামিনে কারাগার থেকে ছাড়া পান শিপ্রা।

জানা গেছে, নীলিমা রিসোর্টে অভিযান চালানোর সময় সিনহার কক্ষ থেকে ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক গায়েব হয়ে যায়। পুলিশের জব্দ তালিকায় তা দেখানো হয়নি। কেউ হার্ডডিস্ক থেকে শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে চরিত্রহননের চেষ্টা করছে কিনা, তা তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

ডকুমেন্টারি তৈরির কাজে শিপ্রা দেবনাথ, তাহসিম সিফাত নূর ও সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে নিয়ে নীলিমা রিসোর্টে এক মাস ধরে অবস্থান করছিলেন সিনহা।

‘জাস্ট গো’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও প্রকাশ করার বিষয়ে শিপ্রা দেবনাথ বলেন, যখন দেখলাম সোশ্যাল মিডিয়ায় নকল ডকুমেন্টারি তৈরি করে জাস্ট গো নামে অনেকে প্রচার করছেন, তখন ভাবলাম আমাদের স্বপ্ন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তখন চিন্তা করলাম আসল তথ্য সবাইকে জানাই। সেই জায়গা থেকেই ভিডিও আপলোড করেছিলাম। যখন দেখলাম মানুষ এটা ভালোভাবে নেয়নি, তখন ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা ডিলিট করে দিয়েছি। অনেকে ধারণা করেছিল, এটা আমার ব্যবসা ছিল। অনেকে আমাকে ভুল বুঝেছিল। তাই তাদের সম্মান জানিয়ে ওই ভিডিও সরিয়ে ফেলেছি।

শিপ্রা আরও বলেন, এটা ঠিক আমি পাবলিক ফিগার নই। জাস্ট গো সোশ্যাল মিডিয়ায় যাওয়ার পর রাতারাতি পাবলিক ফিগারে পরিণত হই। এটা আমি চাইনি। আমাদের স্বপ্ন বাঁচাতে তা আপলোড করেছিলাম। কীভাবে এ ধরনের কাজে সাধারণ মানুষকে হ্যান্ডেল করতে হয়, এটা আমার জানা ছিল না। এখনও নেই। আমি সাধারণ মেয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও কারও আচরণে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়।

শিপ্রা আরও বলেন, কক্সবাজারে যে ঘটনা ঘটেছে, সবাই তার ন্যায়বিচার চাচ্ছে। তিনিও ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় রয়েছেন। এর বাইরে তার আর কোনো কথা নেই।

এই পোস্টটি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© ২০১৯, সংবাদ বাংলা
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: The IT King