1. techostadblog@gmail.com : Fit It : Fit It
  2. mak0akash@gmail.com : AL - AMIN KHAN : AL - AMIN KHAN
  3. admin@sangbadbangla.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

শিক্ষার্থীদের জবি উপাচার্য- বিয়ে করতে গেলে বলবে, তোমরা সব ফকির-মিসকিন

Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০
  • ১৭৭ বার পঠিত

‘তোমরা এত মিসকিন,নিজেদের আত্মমর্যাদা পর্যন্ত নেই। বিয়ে করতে গেলে বলবে, তোমরা সব ফকির-মিসকিন।’ মেস ভাড়া নিয়ে কথা বলতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান। এর আগেও মেস ও বাড়ি ভাড়া নিয়ে চরম বিপাকে থাকা সম্পূর্ণ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের বেফাঁস মন্তব্য শুনিয়েছিলেন জবি ভিসি।

এদিকে করোনা সংকটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বাড়িভাড়া নিয়ে সমস্যা হলে প্রক্টর এবং পুলিশের সাথে কথা বললে সমস্যার সমাধান হবে। অনেক শিক্ষার্থী সেই চেষ্টা করে কোন সমাধান তো পায়নি, উল্টো মেস ভাড়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পাশ্ববর্তী থানায় অভিযোগ জানিয়ে বাড়তি হয়রানির মুখে পড়ছেন। এদিকে প্রতিদিন মেস মালিকরা ফোনকলে ভাড়ার জন্য তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন।

আবার ভাড়া কিছুটা মওকুফ কিংবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বাসা থেকে মালামাল বাহিরে ফেলে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন মেস মালিকরা। জানা গেছে ২-৩ মাসের ভাড়া দেবার পরও চলতি মাসের ভাড়া দিতে না পারায় অনেকের মালামাল ফেলেও দিয়েছে কিছু বাড়ির মালিকেরা।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়ার সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য মীজানুর রহমান উত্তেজিত হয়ে বলেন, “আমি মনে হয় সব থেকে গরিবের বাচ্চাদের নিয়ে এসে ভর্তি করেছি। তোমরা এত মিসকিন, নিজেদের আত্মমর্যাদা পর্যন্ত নেই। আমি কী বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম যে এখানে দরিদ্রদের ভর্তি করা হয়। এটা কি দরিদ্রদের এতিমখানা, মাদ্রাসা? তোমাদের তো আত্মমর্যাদা বলতে কিছু নেই, তোমাদের বিয়ে হবে না। বিয়ে করতে গেলে বলবে, তোমরা সব ফকির-মিসকিন।”

মীজানুর রহমান আরো বলেন, “খাওয়ার টাকা লাগছে না, কেএফসি যাওয়া লাগছে না, মোটরসাইকেলের খরচ লাগছে না, বিড়ি-সিগারেট লাগছে না, রিকশাভাড়া লাগছে না, বান্ধবিরে আইস্ক্রিম খাওয়ানো লাগতেছে না। এসব টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছ না কেন?”

উপাচার্যের এই বিতর্কিত মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এই মন্তব্যের জের ধরে অনেক শিক্ষার্থী তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

জবি শিক্ষার্থী নাহিদ ফারজানা মীম ফেসবুকে বলেছেন, “উপাচার্য আমাদের ফকির-মিসকিন বলে কি প্রমাণ করতে চাইলেন? জগন্নাথে শুধু তার মত ধনী ব্যবসায়ীর সন্তানদের পড়ালেখার জায়গা? জগন্নাথে শুধুমাত্র এলিটরা পড়বে? তিনি ফকির-মিসকিন বলে নির্দিষ্ট শ্রেণীকে হেয় করার কে? মাদ্রাসায় কি সব ফকির-মিসকিন পড়ে? তিনি মাদ্রাসাকে হেয় প্রতিপন্ন করার কে? তিনি ২০ হাজার জবি শিক্ষার্থীর ‘আত্মমর্যাদা’ নিয়ে প্রশ্ন করার কে? কেন এক ছাত্রীহলের কাজ ৭ বছর ধরে হচ্ছে? বাড়ি ভাড়া সংকট সমাধানের দায় কার? এ সকল প্রশ্নের জবাবদিহি উপাচার্য মহোদয়কে করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, এসব উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে তিনি বাড়ি ভাড়া সংকটের দায় এড়াতে পারবেন না। ভিসিকে তার বক্তব্যের জন্য স্পষ্ট জবাবদিহি ও ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে, বাড়ি ভাড়া সংকট নিয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে পদত্যাগ করতে হবে।

আরেক জবি শিক্ষার্থী রাফিউল রকি ফেসবুকে প্রতিবাদে বলেন, “সম্পূর্ণ অনাবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হাজার হাজার জবির শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া সংকট চোখে দেখেন না। অর্থবৃত্তির কথা বলাতে তিনি ২০ হাজার জবিয়ানকে ‘মিসকিন’ বলেছেন। আমাদের যেখানে থাকার জায়গা নেই সেখানে তিনি টকশো নিয়ে ব্যস্ত। আমরা কি এমন ভিসি চাই? যে ভিসি মিসকিন বলে তিনি আমাদের অভিভাবক? আমরা বলতে চাই মহামান্য ভিসিকে তার এই ন্যাক্কারজনক মন্তব্যের জন্য হয় ২০ হাজার জবিয়ানের কাছে জবাবদিহি করে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে নয়তো পদত্যাগ করতে হবে।

আরেক জবি শিক্ষার্থী শুশ্মিতা সেন বলেন, ‘আমাদের মাননীয় ভিসি কোন গরীবের বাচ্চা এনে ভর্তি করেননি ঠিকই কিন্তু তার তত্ত্বাবধানে আমরা ঠিকই গরীব হয়ে যাচ্ছি।

জবিয়ানদের অধিকার আদায়ের ফেসবুক গ্রুপ ‘আমরা জকসু চাই’ গ্রুপ সহ অন্যান্য বেশ কিছু ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত টাইমলাইনে প্রতিবাদ জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া সংকট নিরসনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যের বক্তব্য অত্যন্ত অবমাননাকর বলে মন্তব্য করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানজিম সাকিব। এর নিন্দা জানিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের অপমান করা হয়েছে এবং এ ধরনের চরম ধৃষ্টতামূলক বক্তব্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে হেয় করেছে।

এছাড়া করোনা সংকটের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করে উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহবান জানান তিনি।

এই পোস্টটি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© ২০১৯, সংবাদ বাংলা
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: The IT King