শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

admin | আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: সোমবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৯

দুই বছর আগের ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সম্প্রতি নতুন করে সামনে আসলে রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার মুখে পড়েন মাস্কাট। রবিবারের ভাষণে তিনি বলেন, আগামী ১২ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন তিনি। এর কয়েক দিন পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকেও ইস্তফা দেবেন তিনি। নিজের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর জন্য দলের প্রতি আহ্বান জানানোর কথাও বলেন জোসেফ মাস্কাট।

টেলিভিশন ভাষণে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগেই অবশ্য নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে পদত্যাগের চিন্তাভাবনার কথা জানিয়েছিলেন জোসেফ মাস্কাট। তার পদত্যাগের পর জানুয়ারিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ক্রিস ফিয়ারন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে জানা গেছে।

২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবরে মাল্টায় নিজ বাড়ির অদূরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হন ৫৩ বছর বয়সী অনুসন্ধানী সাংবাদিক ড্যাফেন কারুয়ানা গ্যালিজিয়া। ব্লগ লিখে তিনি ‘ওয়ান ওম্যান উইকিলিকস’ খ্যাতি পেয়েছিলেন।  বলা হয়, মাল্টার সব পত্রিকা মিলিয়ে যত কপি বিক্রি হয়,তার চেয়ে বেশি মানুষ গালিজিয়ার ব্লগ পড়তো। পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি নিয়ে রিপোর্টের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষুদ্র দেশটির শাসক গোষ্ঠী এবং মাফিয়া চক্র; উভয় পক্ষেরই পথের কাঁটা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৩ মাস পর আটক করা তিন ব্যক্তির বিচার চলছে। তবে যাদের নির্দেশে তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের আটক করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি এই মামলার তদন্তে নাটকীয় গতি আসে। দুই মন্ত্রী ছাড়াও পদত্যাগ করেন মাস্কাটের ডান হাত খ্যাত চিফ অব স্টাফ কেইথ স্কেমব্রি। গত মঙ্গলবার তাকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্ত করা ছাড়াই বৃহস্পতিবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে পদত্যাগ করেন তিনি। এছাড়া ইয়টে করে দেশত্যাগের চেষ্টার সময় আটক হয় মূল সন্দেহভাজন ও ব্যবসায়ী ইয়োর্গেন ফেনেচ। ষড়যন্ত্রের তথ্যের বিনিময়ে ওই ব্যবসায়ী ক্ষমার আবেদন করলেও তা বাতিল করে দিয়েছেন আদালত।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পানামা পেপার্স অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিক ড্যাফেন কারুয়ানা গ্যালিজিয়া মাস্কাটের জ্বালানিমন্ত্রী কনরাড মিজি ও তার বন্ধু ব্যবসায়ী কেইথ স্কেমব্রির দুর্নীতি ফাঁস করে দেন।

আদালতের শুনানিতে ইয়োর্গেন ফেনেচের আইনজীবীরা মাল্টার প্রেসিডেন্ট জর্জ ভেলাকে লেখা একটি চিঠি জমা দেন। ওই চিঠিতে হত্যার ষড়যন্ত্রের তথ্যের বিনিময়ে তিনি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ এবং জ্বালানিমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার তথ্যও দিতে চান তিনি। এমন পরিস্থিতিতেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাস্কাট।

Ad The It King