‘মৃত্যুর আগে পুলিশের সঙ্গে ৭৭ বার ফোনে কথা হয় নয়ন বন্ডের’

0
73

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যার মাস্টারমাইন্ড ও প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড।২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় নয়ন। মৃত্যুর আগে পুলিশের সঙ্গে ৭৭ বার টেলিফোনে কথা হয় তার।হাইকোর্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী।

বুধবার মিন্নির জামিন আবেদনের ওপর হাইকোর্টের দেয়া রুলের শুনানিতে অংশ নিয়ে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না এসব কথা বলেন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে মিন্নির জামিন আবেদনের এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ওইদিন আদালতে মিন্নির জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না, তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মশিউর রহমান, মাক্কিয়া ফাতেমা, জামিউল হক ফয়সাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী। এ সময় আদালতে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাবেক বিচারপতি মনসুরুল হক চৌধুরী মিন্নির জামিনের পক্ষে তার মত তুলে ধরেন।

শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন মিন্নির জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, রিফাত হত্যাকাণ্ডের আগে ৮ বার এবং পরে ৫ বার নয়ন বন্ডের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মিন্নি। এটি কি তাকে নির্দোষ প্রমাণ করে? সে এ ঘটনার প্রধান ষড়যন্ত্রকারী। তার কারণেই দুটো প্রাণ ঝরে গেছে।

জবাবে মিন্নির আইনজীবী জেডআই খান পান্না বলেন, নয়ন বন্ড মারা যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে ৭৭ বার টেলিফোনে কথা বলেছে। এ প্রতিবেদন পত্রিকায় এসেছে। সেসব কললিস্ট কোথায়? আর যে নয়ন বন্ডের কথা বলা হচ্ছে, সেই বন্ড তৈরি হয়েছে পুলিশ ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। পুলিশ এখন বলছে বন্ড মিন্নির সৃষ্টি।

তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, নয়ন তার একটি পরিত্যক্ত মোটরসাইকেল আটকের বিষয়ে ওই এসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করত।

এর আগে তলব আদেশে হাইকোর্টে সিডিসহ হাজির হন তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির।আদালত তাকে প্রশ্ন করেন, এ মামলায় কি নয়ন বন্ডকে গ্রেফতার করেছিলেন? জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আমি গত ৩০ মে বরগুনায় নিযুক্ত হই। এর পর অন্য মামলায় নয়ন বন্ডকে আসামি হিসেবে পাই। এ মামলায় সে গ্রেফতার হয়নি। বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে খবর পেয়ে নয়নকে গ্রেফতার করতে গেলে বন্ধুকযুদ্ধে সে মারা যায়।

গত ২৬ জুন রিফাতকে বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। পরে মিন্নির শ্বশুর তার ছেলেকে হত্যায় পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

কথিত বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ডের মৃত্যুর পর তার সম্পর্কে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। সাব্বির আহমেদ থেকে নয়ন বন্ড হয়ে উঠার পেছনে কাজ করেছে বরগুনার রাজনৈতিক শক্তি ও প্রশাসন। এ দুটির প্রশ্রয়েই ছিঁচকে চোর থেকে ভয়ঙ্কর অপরাধী হয়ে উঠেন নয়ন বন্ড। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে- প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও স্থানীয়রা সেটি মানতে নারাজ। তারা বলছেন, নয়ন বন্ডকে ‘মেরে ফেলা’ হয়েছে। নয়ন গ্রেফতার হলে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যেত- এ কারণেই তাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় পুলিশের অনেক অসাধু কর্মকর্তার কুর্কীতিও সামনে চলে আসত নয়ন বেঁচে থাকলে।

স্থানীয়রা বলছেন, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে পূর্ব সম্পর্কের জেরে নয়ন বন্ড রিফাত শরীফকে খুন করেছে এটি যেমন সত্য, ঠিক তেমনি সত্য হচ্ছে- নয়নের ‘বন্ড’ হয়ে উঠার পেছনে রাজনীতিবিদরাই দায়ী।

অন্য অপরাধীর মতো নয়নের উত্থানটাও ছিল বেশ চমকের। নয়নের একসময়ের সহপাঠীরা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে সুনাম দেবনাথ ও থানার কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার আশকারায় সাব্বির আহমেদ থেকে নয়ন বন্ড হয়ে উঠে সে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here