রবিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২১

admin | জনপ্রিয় বিনোদন

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২০

ভাবনার চিত্রকর্ম বিক্রি এক লাখ ৭০ হাজারে

মার্চে লকডাউনের শুরুতেই শুটিং বন্ধ করে স্বেচ্ছাবন্দিত্ব বরণ করে নিয়েছিলেন শোবিজের প্রায় সব কলাকুশলী। অভিনয়শিল্পীদের অনেকেই যখন অলস সময় কাটাচ্ছিলেন, আশনা হাবিব ভাবনা তখন হাতে তুলে নিয়েছিলেন রংতুলি। মনের মাধুরী মিশিয়ে তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন নান্দনিক সব চিত্রকর্ম। শুরুটা অবশ্য করেছিলেন লিপস্টিক, আইলাইনার, আইশ্যাডোর মতো রূপচর্চাসামগ্রী দিয়ে। ‘ভয়ংকর সুন্দর’ অভিনেত্রীর আঁকা সেসব ছবি ব্যাপক প্রশংসিত হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাঁর আঁকা নির্বাচিত কিছু চিত্রকর্ম নিয়ে এপ্রিলের শুরুতেই ‘রঙের মেলা’য় ছাপা হয়েছিল বিশেষ ফিচার—‘লিপস্টিকে আঁকা ভাবনা’। এই প্রতিবেদন খুবই অনুপ্রাণিত করেছিল ভাবনাকে, ‘লকডাউনের আগে জানাই ছিল না আমার বিশেষ এই গুণের কথা। শুরুতেই উৎসাহ পাওয়ায় এখন পর্যন্ত এক শরও বেশি চিত্রকর্ম আঁকতে পেরেছি। কালের কণ্ঠ’র কাছে আমি বিশেষভাবে ঋণী।’

কথা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানালেন, তাঁর আঁকা ছবিগুলোর মধ্য থেকে চারটি বিক্রি করেছেন এক লাখ ৭০ হাজার টাকায়। ক্রেতার তালিকায় আছেন শোবিজেরই কয়েকজন। ছবি বিক্রির অর্থের পুরোটাই তিনি দান করেছেন অসচ্ছল মানুষদের।  এর মধ্যে আছেন শোবিজেরই কয়েকজন মানুষ, লজ্জায় যাঁরা কারো কাছে হাত পাততে পারছিলেন না। প্রসঙ্গক্রমে কথাগুলো বলে দিলেন ঠিকই, কিন্তু এসব নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ করার কথা বলতেই তেড়ে এলেন ভাবনা, ‘না না, ভাই! মানুষকে সাহায্য করে সংবাদ প্রকাশ করাটা একেবারেই অনুচিত। মনে হয় নিজের স্বার্থে সেই অসহায় মানুষগুলোকে ব্যবহার করলাম!’

অনেক দিন ধরেই পিতৃপরিচয়হীন ৩৫টি শিশুর ভরণ-পোষণ দেন ভাবনা। অসচেতন যৌনকর্মীদের সন্তান এরা। এই তথ্যও মিডিয়ায় বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না অভিনেত্রী। কিন্তু তাঁকে যখন বলা হলো, ছবি বিক্রির খবর পত্রিকায় প্রকাশ পেলে অসহায় মানুষদেরই লাভ, যদি আরো ছবি বিক্রি হয়, সেই টাকাও নিশ্চয়ই তাঁরা পাবেন, এবার কিছুটা নিমরাজি ভাবনা। পুরোপুরি রাজি হলেন আরেকটি ঘটনা বলার পর। লকডাউন শুরুর কিছুদিন পর একটা সংবাদ এসেছিল পত্রিকায়, করোনায় ভাবনার মা তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন। এতে উৎসাহিত হয়ে ঢাকা শহরের অনেক বাড়িওয়ালাই ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ বা কমিয়ে দিয়েছেন।

অনেকক্ষণ চুপ থেকে ভাবনা বললেন তাঁর ছবির ক্রেতাদের নাম, ‘ক্রেতার দলে আছেন দুজন অভিনেত্রী—রুমানা রশীদ ঈশিতা ও আফিয়া নুসরাত বর্ষা। ঈশিতা আপু কিনেছেন একজন নারীর পোর্ট্রেট, বর্ষা কিনেছে হাতির চিত্রকর্ম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা পোর্ট্রেট কিনেছেন একুশে পদক জয়ী প্রয়াত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী জাহেদুর রহিমের ছেলে তানজীর রহিম রাজ। আরেকটি কিনেছেন সৌদি এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ প্রধান আবিদা রুমকি।’

ভাবনার আঁকা ছবি কেন কিনেছেন? জানতে চাইলে অভিনেত্রী রুমানা রশীদ ঈশিতা বলেন, ‘ভাবনা দারুণ আঁকে। যেকোনো ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া উচিত। আমি যে পোর্ট্রেটটা কিনেছি সেটা কার অবয়ব ঠিক জানি না, কিন্তু কোথায় যেন আমার নানুর চেহারার সঙ্গে মিল আছে। তাই এ ছবিটাই পছন্দ করেছি।’

ছবি আঁকা এখনো থেমে নেই ভাবনার। শুটিংয়ের ফাঁকে সময় বের করে নিয়মিতই আঁকছেন। ভাবনা বলেন, ‘ইচ্ছা আছে, আমার আঁকা সব ছবি নিয়ে একটা প্রদর্শনী করব—মাই লকডাউন ডায়েরি।’