1. techostadblog@gmail.com : Fit It : Fit It
  2. mak0akash@gmail.com : AL - AMIN KHAN : AL - AMIN KHAN
  3. admin@sangbadbangla.com : admin :
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন

প্রথম ‘জেমস বন্ড’ শন কনোরি আর নেই

Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৮৩ বার পঠিত

জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত হওয়া অস্কারজয়ী ব্রিটিশ অভিনেতা শন কনোরি আর নেই। শনিবার ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি।

১৯৬০ এর দশকে ০০৭ ছবিগুলোতে অভিনয়ের জন্য তিনি সারা বিশ্বে তারকাখ্যাতি পেয়েছিলেন।

স্কটিশ এই অভিনেতাই রূপালি পর্দায় প্রথম জেমস বণ্ড।

ইয়ান ফ্লেমিং-এর রোমাঞ্চ উপন্যাসের এই কাল্পনিক ব্রিটিশ স্পাইকে নিয়ে নির্মিত মোট সাতটি থ্রিলার ছবিতে তিনি নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

সিনেমায় তার অবদানের জন্য ২০০০ সালে নাইটহুড খেতাবপ্রাপ্ত শন কনোরি বেশ কিছুকাল ধরেই অসুস্থ ছিলেন এবং বাহামায় অবস্থান করছিলেন। সেখানেই ঘুমের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

শ্রেষ্ঠ জেমস বন্ড?

গত ৬০ বছরে জেমস বন্ডকে নিয়ে অনেকগুলো ছবি হয়েছে, আর তাতে এই চরিত্রে কনোরি ছাড়াও রজার মুর, জর্জ ল্যাজনবি, টিমোথি ডালটন, পিয়ার্স ব্রসনান এবং সর্বসাম্প্রতিক ড্যানিয়েল ক্রেইগের মত অভিনেতারা।

কিন্তু অনেকের মতে বণ্ড চরিত্রের রূপায়নকারীদের মধ্যে শন কনোরিই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।

পর্দায় তিনি দ্রুতগামী এ্যাস্টন মার্টিন গাড়ি চালাতেন, পান করতেন ভদকা মার্টিনি, তার হাঁটা ছিল শিকারী প্যান্থারের মতো, পোশাক ছিল নিখুঁত, চোখের দৃষ্টি ছিল শীতল।

তার চারপাশে কখনো সুন্দরী নারীর অভাব হতো না।

সাধারণ পরিবারে তার জন্ম

ইয়ান ফ্লেমিং এর রচনায় জেমস বন্ড যদিও অভিজাত স্কুলের ছাত্র ছিলেন, কিন্তু শন কনোরির জন্ম ছিল অতি সাধারণ এক পরিবারে, ১৯৩০ সালের ২৫ আগস্ট এডিনবরার ফাউন্টেনব্রিজ এলাকায়।

তার বাবা ছিলেন কারখানা কর্মী আর মা ছিলেন ক্লিনার।

শুরুর দিকে তার জীবনে প্রাচুর্য, দামি গাড়ি বা সুন্দরী নারী – এসব কিছুই ছিল না।

তাদের বাড়িতে কোনো গরম পানিও ছিল না, টয়লেট ভাগাভাগি করতে হতো অন্যদের সাথে।

শন কনোরি স্কুল ছাড়েন ১৩ বছর বয়সে, কোনো ডিগ্রি ছাড়া।

প্রথম জীবনে বিচিত্র সব পেশা

কিছুদিন তিনি বাড়ি বাড়ি দুধ পৌঁছে দেয়া, কফিন পালিশ করা এবং বাড়ি তৈরির ইট পাতার কাজ করতেন।

এর পর তিনি নৌবাহিনীতে যোগ দেন। কিন্তু তিন বছরের মধ্যেই তাকে পাকস্থলীর আলসারের জন্য চাকরি ছাড়তে হয়।

এর পর তিনি ট্রাক চালানো থেকে শুরু করে জীবনরক্ষাকারী এবং এডিনবরার আর্ট কলেজে মডেল হওয়াসহ নানা বিচিত্র কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

অবসর সময়ে বডিবিল্ডিং করতেন, ফুটবলও খেলতেন। পরে তিনি চেষ্টা করতে থাকেন সিনেমা ও টিভিতে অভিনয়ের সুযোগ পাবার।

১৯৫৭ সালে তিনি ‘ব্লাড মানি’ নামে একটি ছবিতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ পান।

জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব

আরো কয়েকটি ছবি করার পর জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অফার পান তিনি।

এ চরিত্রের জন্য তাকে পছন্দ করেছিলেন ডক্টর নো ছবির দুই প্রযোজকের একজনের স্ত্রী।

তবে লেখক ইয়েন ফ্লেমিংএর তাকে প্রথমে পছন্দ হয়নি। কিন্তু পর্দায় তাকে দেখার পর মত পাল্টান ফ্লেমিং।

তার শুভাকাঙ্খীরা বিভিন্ন সময় শন কনোরিকে ভালো ভালো লেখকদের বই পড়তে দিয়ে, দামী রেস্তোঁরা ও ক্যাসিনোতে ঘুরিয়ে তাকে সিনেমার চরিত্রের উপযোগী চলন-বলনে অভ্যস্ত করে তুলেছিলেন।

তার অভিনীত প্রথম বন্ড ছবি ডক্টর নো ব্যাপকভাবে ব্যবসাসফল হয়।

তবে পরপর পাঁচটি বন্ড ছবি করার পর শন কনোরি ক্লান্ত এবং বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন।

ফলে ষষ্ঠ বন্ড ছবিতে তার জায়গায় আসেন অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা জর্জ ল্যাজেনবি। কিন্তু সেটা জনপ্রিয়তা না পাওয়ায় প্রযোজকরা আবার শন কনোরিকে ফিরিয়ে আনেন ‘অন হার ম্যাজেস্টি’জ সিক্রেট সার্ভিস’ ছবিতে।

এ জন্য তাকে দেয়া হয় ১.২৫ মিলিয়ন ডলার।

এর পর তার শেষ বণ্ড মুভি ছিল ‘নেভার সে নেভার এগেইন’।

অস্কার প্রাপ্তি ১৯৮৮ সালে

অভিনেতা হিসেবে কয়েক দশকের কেরিয়ারে তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন।

এরা মধ্যে আছে ১৯৮৮ সালে দি আনটাচেবল ছবিতে এক আইরিশ পুলিশের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পাওয়া অস্কার। তিনি দু’বার বাফটা পুরস্কার এবং তিনবার গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারও পেয়েছেন।

তার অভিনীত অন্য ছবিগুলোর মধ্যে আছে দি হান্ট ফর রেড অক্টোবর, ইন্ডিয়ানা জোনস, লাস্ট ক্রুসেড, দি রক ইত্যাদি।

২০০৬ সালে লর্ড অব দ্য রিং ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বলেছিলেন অভিনয়ের ব্যাপারে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, আর হলিউডে এখন যারা ছবি বানায় সেই ‘নির্বোধদের’ ব্যাপারেও তিনি বিরক্ত।

শন কনোরি বিয়ে করেন দু’বার । প্রথম স্ত্রী অভিনেত্রী ডায়ান সিলেন্টো, কার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি বিয়ে করেন চিত্রশিল্পী মিশেলিন রোকুব্রুনকে।

তার ছেলে অভিনেতা জেসন কনোরি।

সূত্র : বিবিসি

এই পোস্টটি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর
© ২০১৯, সংবাদ বাংলা
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: The IT King