মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১

Fit It | Uncategorized

প্রকাশ: রবিবার, মে ৩০, ২০২১

নতুন বাজেটে ন্যূনতম করহার কমানো হচ্ছে

আগামী বাজেট পাইকারি ব্যবসায়ী, পণ্য পরিবেশক, ব্যক্তিমালিকানাধীন (প্রোপ্রাইটরশিপ) প্রতিষ্ঠানের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে। করোনাকালে তাদের স্বস্তি দিতে ন্যূনতম আয়কর হার কমানো হচ্ছে। তাই এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর করের চাপ অনেকাংশে কমবে। এছাড়াও বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির কর রেয়াতের বিনিয়োগ সীমা কমানো হচ্ছে। পাশাপাশি সমবায় সমিতির ঋণের সুদ আয়কে করমুক্ত করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক লেনদেনের ওপর ন্যূনতম কর আরোপ করা হয়। ব্যবসায় লাভ বা লোকসান যা-ই হোক, এ কর ব্যবসায়ীদের দিতেই হবে। ন্যূনতম করকে আয়কর অধ্যাদেশের মূলনীতির পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমানে যেসব ব্যবসায় বছরে তিন কোটি টাকা বা এর বেশি পণ্য বিক্রি হয়, তার ওপর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ ন্যূনতম আয়কর আরোপিত আছে। তবে পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্পের ক্ষেত্রে উৎপাদন শুরুর পরবর্তী প্রথম তিন বছর ন্যূনতম করহার দশমিক ১০ শতাংশ। এর বাইরে মোবাইল অপারেটরদের লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে টার্নওভারের ওপর ২ শতাংশ এবং তামাক প্রস্তুতকারক কোম্পানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম করহার এক শতাংশ।

আয়কর কর্মকর্তাদের মতে, লোকসান দেখিয়ে অনেক ব্যবসায়ী আয়কর দিতে চান না। আবার অনেকে আয় কম দেখিয়ে সামান্য কর দেন। তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য এই ধারা আয়কর অধ্যাদেশে যুক্ত করা হয়েছে। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান কর দিতে বাধ্য হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী বাজেটে শুধু ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম করহার দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে দশমিক ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। মোবাইল অপারেটর ও সিগারেট, বিড়ি, চুষে খাওয়ার তামাক, ধোঁয়াবিহীন তামাক বা অন্যসব তামাক প্রস্তুতকারক কোম্পানির ন্যূনতম কর আগের মতোই থাকছে। এনবিআর মনে করছে, ডিও ব্যবসা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে লেনদেনের ওপর বিদ্যমান টার্নওভার কর একটু বেশি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এটি কমিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম কর কমিয়ে আনা দরকার। এতে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পুঁজি বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. গোলাম মাওলা বলেন, টার্নওভারের সঙ্গে আয়করের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যবসায় আয় হলে আয়কর দেবে, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু পাইকারি ব্যবসায়ীদের লোকসান হলেও টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম কর দেওয়া লাগছে, এটা চরম অন্যায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আইনের মতো। ব্যবসায়ীরা কি বাড়িঘর বিক্রি করে ট্যাক্স দেবে? বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ট্যাক্স উঠিয়ে দেওয়া উচিত।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, ন্যূনতম কর আয়করের মূলনীতির পরিপন্থি। ব্যবসায় লাভ হলে কর দেওয়া যায় এবং সেটা যৌক্তিকও। কিন্তু লোকসান হলে কর আদায়টা অমানবিক। আর করোনাকালীন বিশেষত এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে অনেক ব্যবসা টিকে থাকতে সমস্যা হচ্ছে। এ অবস্থায় ন্যূনতম কর আদায় করলে ক্যাশ ফ্লো অনেক কমে যাবে। তাই আপাতত ব্যবসায় লোকসান হলে এই কর আদায় বন্ধ রাখা উচিত।

অন্যদিকে বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা কমানো হচ্ছে। এটি দেড় কোটি টাকা থেকে কমিয়ে এক কোটি টাকা করা হচ্ছে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার এক কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকে রেয়াতযোগ্য হিসাবে গণ্য করা হবে। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রসহ ৯ খাতে বিনিয়োগ এবং ১৩ খাতে দান করলে কর রেয়াত পাওয়া যায়। এসব খাতে একজন করদাতা তার মোট বার্ষিক আয়ের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা দান রেয়াতযোগ্য। এর বেশি বিনিয়োগ বা দান করলে অতিরিক্ত অংশের জন্য রেয়াত পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে মোট বিনিয়োগ ও দানের ১৫ শতাংশ কর ছাড় মিলবে। আর বার্ষিক আয় ১৫ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে কর ছাড় পাওয়া যাবে।

যেসব খাতে কর রেয়াত পাওয়া যায়, সেগুলো হচ্ছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, স্টক, মিউচুয়াল ফান্ড বা ডিভেঞ্চার ক্রয়; জীবনবিমার প্রিমিয়াম; সরকারি কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ভবিষ্যতহবিলের চাঁদা; স্বীকৃত ভবিষ্যতহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাঁদা; কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠীবিমার তহবিলে চাঁদা; সরকার অনুমোদিত ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ; বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকার এফডিআর এবং সুপার অ্যানুয়েশন ফান্ডে চাঁদা।

এছাড়া বাজেটে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্রঋণ থেকে আয়কে করমুক্ত করা হচ্ছে। এজন্য অর্থবিলের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের ষষ্ঠ তপশিলে সংশোধন আনা হচ্ছে। বর্তমানে এনজিও ব্যুরোতে নিবন্ধিত এনজিওগুলো এ সুবিধা পাচ্ছে। অবশ্য ক্ষুদ্রঋণ থেকে প্রাপ্ত সুদ আয় ছাড়া অন্য সব আয় করযোগ্য।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বর্তমানে দেশে দেশি-বিদেশি এনজিওর সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার। আর সরকারি সংস্থা এনজিও ব্যুরোর হিসাবে দেশে ২ হাজার ৫৬৫ এনজিও কাজ করছে। এর মধ্যে দেশি ২ হাজার ২০৯টি এবং বিদেশি ২৫৬টি। আর মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) অনুমোদন নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছে, এমন এনজিওর সংখ্যা ৬৯০টি।

মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস : আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল এবং বেতনভাতা ব্যতীত অন্য ব্যয়ের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকার বেশি হলে ক্রস চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে করার বিধান রয়েছে। ক্রস চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে দায় পরিশোধ করা না হলে সেই খরচকে অনুমোদনযোগ্য খরচ হিসাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না। অর্থাৎ ওই খরচকে আয় হিসাবে গণ্য করে আয়কর আদায় করা হয়ে থাকে। আগামী বাজেটে ক্রস চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসকে যুক্ত করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী যেসব ক্ষেত্রে ব্যাংক ট্রান্সফারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংক ট্রান্সফারের পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসকে যুক্ত করা হচ্ছে।