সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের আশায় সাগর পানে জেলেরা

প্রায় একশ দিন পর নিজস্ব ঠিকানায় ফিরছেন মৎস্যজীবীরা। ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ ধরার আশায় সাগরে যাত্রা শুরু করেছেন চট্টগ্রামের জেলেরা।

নগরীর ফিসারিঘাট, মাঝিরঘাট, চাক্তাই, ফিরিঙ্গিবাজার, কাট্টলী আর জেলার সীতাকুণ্ড ও আনোয়ারা উপকূলে মাছ ধরার সব ট্রলার ও নৌকা প্রস্তুত।

গত ২০ মে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে তার অনেক আগেই করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মাছ ধরা বন্ধ ছিল।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষের আগে বিকেলেই বরফসহ জরুরি সরঞ্জামসহ বড় বড় ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে সাগর পথে রওনা হন জেলেরা। তার আগে কয়েকদিন ধরে চলে চাল-ডাল-তেল-সবজি কেনা, জাল মেরামত আর প্রয়োজনীয় উপকরণ বোঝাই করা।

মাঝিরঘাট এলাকার জেলে নৌকার কর্মী বাবুল দাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আশা করছি এবার বেশি ইলিশ পড়বে। প্রায় চার মাসের মত মাছ ধরা হয়নি। এই সময়টা খুব কষ্টে গেছে। মার্চে শেষবার সাগরে গেছিলাম। আবার এখন যাচ্ছি।” 

আলম নামের আরেক জেলে বলেন, “প্রায় এক মাসের জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছি। যদি বেশি মাছ পড়ে তাহলে ১০-১৫ দিন পর একবার ফিরতে পারি। তারপর আবার যাব।

“এবার তো লম্বা সময় সাগরে জাল পড়েনি। এই সময়ে ইলিশ অনেক বড় হয়েছে। এখন বৃষ্টিও হচ্ছে। ভালো ইলিশ ধরা পড়বে।”

বৃহস্পতিবার বিকালে ফিসারিঘাটের পুরান বাজার চট্টগ্রাম মহানগর মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শামসুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৃষ্টির সাথে ঢলের পানিও আছে। এই সময় ইলিশের সাইজ অনেক বড় হয়। আজ খবর পেলাম চাঁদপুরের দিকে যা ধরা পড়ছে সব এক কেজির উপরের ইলিশ। এবার মাছ বড় হবে।  

“লকডাউন আর নিষেধাজ্ঞায় সাগরে জাল পড়েনি তাই এবার মাছের পরিমাণও বেশি হবে। এখন পর্যন্ত তিনশ বোট রওনা হয়েছে। রাতে আরো চার-পাঁচশ রওনা হবে।”

কাট্টলী-সীতাকুণ্ড এলাকায় উপকূলের কাছাকাছি ছোট আকারের বোট নিয়ে মাছ ধরে উত্তর চট্টলা উপকূলীয় জলদাস সমবায় কল্যাণ সমিতির সদস্য জেলেরা।

সমিতির সভাপতি লিটন দাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবার করোনা আর নিষেধাজ্ঞা মিলিয়ে আমাদের গরিব জেলেরা খুব অসহায় দিনযাপন করেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি বরাদ্দ চাল ছাড়া কিছুই পাইনি।

“চার মাসের বেশি সময় রোজগার নেই। ধার করে অনেকে সাগরে যাচ্ছে। এবার ইলিশ বেশি ধরতে পারলে হয়ত ধার শোধ করে কিছু আয় হবে এটাই আশা সবার।”

এছাড়া আনোয়ারা উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে ছয়শ বোট সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছে।