মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১

admin | অন্যান্য জনপ্রিয় জাতীয় শিক্ষা

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২০

চার কলেজে ভার্চুয়াল ভর্তি পরীক্ষায় জটিলতা

চার্চ পরিচালিত রাজধানীর চার কলেজ এবার ভার্চুয়াল পরীক্ষার মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। কিন্তু এই ভর্তি কার্যক্রমের শুরুতেই বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। গতকাল রবিবার দুটি কলেজে ডেমো টেস্টের জন্য নির্ধারিত দিন থাকলেও শিক্ষার্থীরা দিনভর চেষ্টা করেও নির্দিষ্ট লিংকে ঢুকতে পারেনি। আবার যে শিক্ষার্থী হলিক্রস কলেজে আবেদন করেছে, তার প্রবেশপত্র এসেছে নটর ডেম কলেজের। অর্থাৎ মেয়ে শিক্ষার্থীর জন্য ছেলেদের কলেজের প্রবেশপত্র এসেছে। এ নিয়ে হাস্যরস সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা উৎকণ্ঠায় পড়েছেন।

জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে দেশের সব কলেজে একাদশ শ্রেণিতে জিপিএর ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে আদালতের আদেশে চার্চ পরিচালিত চার কলেজ পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। সেই হিসাবে এবার করোনার মধ্যে নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ, সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ভার্চুয়াল পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা বোর্ড। ৯ থেকে ২৪ আগস্টের মধ্যে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

হলিক্রস গত ৯ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণের সময় নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সার্ভার জটিলতার কারণে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে না পারায় গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। এর পরও অনেকেই আবেদন করতে পারেনি। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ডেমো টেস্টের জন্য সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ওয়েবসাইটে দেওয়া লিংকে শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই ঢুকতে পারেনি। গতকাল রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই ডেমো টেস্টের সময় বাড়ানোর পরও অনেক শিক্ষার্থী ঢুকতে ব্যর্থ হয়। সেন্ট জোসেফে ডেমো টেস্ট নেওয়ার কথা থাকলেও সেখানেও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় কাল মঙ্গলবার ভার্চুয়াল ভর্তি পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে নটর ডেম ও সেন্ট জোসেফের। গতকাল হলিক্রসের চূড়ান্ত পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে জানানোর কথা থাকলেও রাত ৯টা পর্যন্ত তারা তা জানায়নি।

নাম প্রকাশ না করে একজন অভিভাবক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা হলিক্রসের ডেমো টেস্টের জন্য দিনভর অপেক্ষা করেছি। কিন্তু ঢুকতে পারিনি। এমনকি আমাদের পরিচিত যারা আবেদন করেছিল, তাদের কেউ-ই ঢুকতে পারেনি। আমরা কলেজের হেল্পলাইনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও চেষ্টা করে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু শত চেষ্টার পরও লিংকে ঢোকা সম্ভব হয়নি। যদি ডেমো টেস্ট দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে না পারে, তাহলে চূড়ান্ত পরীক্ষায় কিভাবে বসবে? এ অবস্থা যদি চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়ও হয়, তাহলে কী হবে? আমরা খুবই চিন্তায় আছি।’

আরেক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমার মেয়েও হলিক্রসের দেওয়া লিংকে ডেমো টেস্টের জন্য ঢুকতে পারেনি। আগে থেকেই আমার মেয়ে হলিক্রসের প্রবেশপত্র ডাউনলোড করেছিল। গতকাল বিকেলে ডেমো টেস্ট দেওয়ার জন্য লিংকে ঢুকলে নটর ডেম কলেজের প্রবেশপত্র এসেছে। অথচ নটর ডেম ছেলেদের কলেজ। এই ভার্চুয়াল পরীক্ষা খুবই হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আমরা উৎকণ্ঠায়ও আছি।’

চার্চ পরিচালিত চার কলেজের আবেদন গ্রহণ ও পরীক্ষা নিচ্ছে ‘এম ক্যাম্পাস’ নামের একটি আইটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো নম্বর পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে কথা বলতে গত রাতে হলিক্রস কলেজের অধ্যক্ষকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি। আর নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা দেশের সব কলেজে কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা হলেও চার্চ পরিচালিত চার কলেজ আলাদাভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। আমাদের এখানে লাখ লাখ শিক্ষার্থী আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। যদি চার্চ পরিচালিত চার কলেজের ভর্তিতে সমস্যার ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আমরা তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’