ঘটনাটি ‘ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে’ দেখতে বললেন সেই ডিসি

0
75

অফিসের নারীকর্মীর সঙ্গে নিজের বিশ্রাম কক্ষে আপত্তিকার অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। সংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ভিডিওটিতে দেখানো কক্ষটি তার অফিসের বিশ্রাম নেওয়ার কক্ষ এবং ভিডিও’র ওই নারী তার কার্যালয়ের ‘অফিস সহায়ক’ হিসেবে কর্মরত। এ সময় তিনি ঘটনাটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বানও জানান। ঘটনাটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার কথা বলার পরই বিশ্রাম কক্ষে যা ঘটেছে সেটাকে সাজানো বলে দাবি করেন তিনি।  আরো পড়ুন: নারী নিয়ে রুমে ঢুকে লাল বাতি জালিয়ে দিতেন ডিসি তিনি বলেন, ‘এটি একটি সাজানো ভিডিও। একটি হ্যাকার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করলেও আমি বিষয়টি গুরুত্ব দেইনি। বানোয়াট ভিডিওটি একটি ফেক আইডি থেকে পোস্ট দেওয়া হয়।’  তবে ভিডিওটিতে দেখানো কক্ষটি তার অফিসের বিশ্রাম নেওয়ার কক্ষ এবং ভিডিওর ওই নারী তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এসময় জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের এবিষয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার জন্যও অনুরোধ করেন। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ডিসি কথা বলার সময় প্রশাসনের লোকজন জোর করে উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেকের ফোন থেকে আলোচিত ভিডিওটি মুছে ফেলেন।   বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট কর হয়। জেলা প্রশাসকের এমন কর্মকাকাণ্ড শুক্রবার (২৩ আগস্ট) ভোর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে শুক্রবার সকাল থেকে ওই আইডিতে আর ওই ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু এর মধ্যেই ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ভাইরাল আকারে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ৩ আগস্ট জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে তার কার্যালয়ের এক নারীকর্মীর সঙ্গে অফিস কক্ষের পাশের রুমে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়।   এ বিষয়ে জামালপুরের নারী নেত্রী এডভোকেট শামীম আরা বলেন, জেলার সরকারি শীর্ষ একজন কর্মকর্তার কাছে নানা সমস্যা নিয়ে নারীরা তার কার্যালয়ে যান। নিরাপত্তাও চান তার কাছে। কিন্তু রক্ষক যদি ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেন তাহলে নারীরা কোথায় নিরাপদ। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। এ ঘটনায় জামালপুরের নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।  ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান এনডিসি সাংবাদিকদের বলেন, জামালপুরের জেলা প্রশাসকের একটি ভিডিও ভাইরালের খবর তিনি শুনেছেন। যদি ঘটনা সঠিক হয়, তবে সেটা ন্যাক্কারজনক। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here