সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

admin | অন্যান্য কৃষি ও প্রকৃতি খোলা কলাম জনপ্রিয়

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২০

গরু কিনতে ‘ভিড় বাড়ছে’ অনলাইন হাটে

মহামারীর মধ্যে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চালু করা পশুর অনলাইন মার্কেট প্লেসগুলোতে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

ক্রেতারা ওয়েবসাইটগুলোতে গিয়ে পশুর দরদাম যাচাই করছেন। তবে ডিজিটাল হাটে আড়াই হাজারের বেশি কোরবানির পশু উঠলেও তেমন বিক্রির খবর নেই ব্যবসায়ীদের কাছে।

আগামী ১ অগাস্ট শনিবার দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের তিন থেকে চার দিন আগ থেকে বিক্রি শুরু হবে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে ডিজিটাল হাটে। ডিজিটাল হাটে গত কয়েক দিন প্রায় এক লাখ ভিজিটর তাদের পছন্দসই গরু যাচাই-বাছাইয়ের চেষ্টা করেছেন। এখনও বিক্রি তেমন নেই। তবে আশা করছি, ঈদের আগে বিক্রি বাড়বে।”

করোনাভাইরাস মহামারীকালে কোরবানির পশু কেনাবেচায় গত ১১ জুলাই থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ডিজিটাল হাট’ শুরু হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে এই ডিজিটাল হাট।

প্রায় দুই হাজার পশু কোরবানি এবং মাংস প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় হোম ডেলিভারি দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে ‘ডিজিটাল হাট’। প্রচলিত হাটে পশু কেনায় হাসিল দিতে হলেও এখানে ক্রেতাদের কোনো হাসিল দিতে হবে না।

তবে অনলাইন হাটগুলোতে গরুর দাম নিয়ে অসস্তোষ রয়েছে ক্রেতাদের। এ বিষয়ে অনলাইন বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতারা এখনও অনলাইনে কেনাকাটার ‘সুবিধা বুঝতে পারছেন না’। 

আব্দুল ওয়াহেদ তমাল জানান, ৫৪টি অনলাইন বিক্রয় পার্টনারের সহায়তায় আড়াই হাজারের বেশি গরু সংযুক্ত হয়েছে ডিজিটাল হাটে। তাই রঙ, আকার, ছোট-বড়, দেশি-বিদেশি সব ধরনের গরু, ছাগল, মহিষ কেনা যাবে এই হাট থেকে। আর ন্যায্যমূল্যের বিষয়টি তদারকি করছে উত্তর সিটি করপোরেশন। তাই দাম নিয়ে ক্রেতাদের ‘ভাবতে হবে না’।

এখনও ক্রেতা না পাওয়ার কারণ হিসেবে তমাল বলেন, “ক্রেতাদের বুঝানো যাচ্ছে না কীভাবে গরু কিনে তারা সুবিধা করতে পারবেন। অনেকেই ছবি বা ভিডিও দেখে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। একটি লাইভ গরুর ওজন অনুযায়ী বিক্রির সুবিধা থাকায় ক্রেতাদের সহজেই অনুমান করার সুযোগ রয়েছে, গরুর আসল ওজন কত হবে।”

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন সদস্যদের মধ্যে প্রায় ১০০ ব্যবসায়ী কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান তমাল।

ডিজিটাল হাট ও অন্যান্য অনলাইন হাট থেকে গরু কেনায় দামের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলে খামারে গরু রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ক্রেতার ইচ্ছা অনুযায়ী ঈদের এক থেকে দুই দিন আগে এসব গরু সরবরাহ করা হবে। তবে পশু সরবরাহের আগেই বাকি মূল্য পরিশোধ বা ক্যাশ অন ডেলিভারির সুযোগও দিচ্ছেন অনেকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকায় বেশিরভাগ ক্রেতাদের পশু রাখার জায়গা না থাকায় ঈদের একদিন আগে পশু নিতে চান।

কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সাদেক অ্যাগ্রোর মালিক মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনলাইনে বিক্রি ভালোই হচ্ছে। আমার খামার থাকায় ক্রেতারা সুবিধাও বেশি পাচ্ছেন। অনলাইনে পছন্দ করে খামারে এসে চূড়ান্ত করে যাচ্ছেন।”

৩৮ লাখ টাকার গরু অনলাইনে পছন্দ করার পর সরাসরি খামারে এসে সেটা কিনে নিয়েছেন বলেও জানান ইমরান।

ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে বিক্রি বাড়ার আশা প্রকাশ করে সাদেক অ্যাগ্রোর মালিক বলেন, তার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এখনও হাজারের বেশি পশুর ছবি দেওয়া আছে বিক্রির জন্যে।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে গত বছর সারা দেশে এক কোটি ৫ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। ঢাকা বিভাগে ২৫ লাখ এবং শুধু ঢাকা মহানগরীতে ১৮ লাখ পশু কোরবানির জন্য বিক্রি হয়েছিল।

বেচা-বিক্রি নিয়ে আজকের ডিলের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঈদের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রতিদিনই সাইটে ক্রেতাদের ভিজিট বেড়ে চলছে। ঈদের কয়েক দিন আগে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।”

বেঙ্গলমিটের হেড অব রিটেইল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এবার কোভিড-১৯ মহামারী বিবেচনায় কোরবানির জন্য শুধু প্রক্রিয়াজাত মাংস সরবরাহের উদ্যোগ নিলেও গ্রাহকের চাহিদায় এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

“বর্তমানে ক্রেতাদের জন্য প্রসেসড ছাড়াও কোরবানির পশু সরবরাহ করা হচ্ছে।”  

গত কোরবানির ঈদে অনলাইন অর্ডারে সরাসরি পশুর পাশাপাশি মাংস কেটেকুটে গ্রাহককে দিয়েছিল বেঙ্গলমিট।

কত সংখ্যক পশু এরইমধ্যে বিক্রি হয়েছে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, “চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং ৭০০ এর মতো পশুর মাংস প্রক্রিয়াজাত করে সরবরাহ করার অর্ডার প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।” 

গ্রামীণফ্রেন্ডসের সিইও জুনায়েদ আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রায় ৩০০ কোরবানির পশু বিক্রি করেছি, বর্তমানে ৩০০ এর বেশি গরু রয়েছে। চাহিদা বাড়লে আরও গরু সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।”