বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৮, ২০২১

admin | বিনোদন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০

ক্যানসারে আক্রান্ত সঞ্জয় দত্তের আবেগঘন বার্তা

ভালো নেই সঞ্জয় দত্ত। ভালো নেই বলিউড। এক ঝড় এসে ধাক্কা দিয়েছে সঞ্জয় দত্তের জীবনে। ক্যানসার হামলা করেছে তাঁর জীবনে। তবে ভেঙে পড়েননি ‘মুন্না ভাই’। লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। অগ্রিম জয়ী হওয়ার খবরটিও দিলেন সন্তানদের জন্মদিনে। যুদ্ধে জয়ী হওয়ার কথা ‘টুইট’ করে জানালেন এই বলিউড অভিনেতা।
গত আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে খবর এসেছিল ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন সঞ্জয় দত্ত। তারপর থেকেই কাজ থেকে ছুটি নিয়ে চিকিৎসা চলে এই বলিউড তারকার। জানা যায়, স্টেজ ফোর ক্যানসারে ভুগছেন বলিউডের এই সুপারস্টার। দুই দিন আগেই শোনা যায়, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন সঞ্জয় দত্ত। আর আজ যমজ সন্তান ইকরা ও শাহরানের জন্মদিনে টুইট করে এই অভিনেতা জানালেন, তিনি যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন।

টুইটার বার্তায় সুহৃদ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই কঠিন সময়ে পাশে থাকা এবং ক্রমাগত প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ জানান সঞ্জয়। তিনি লিখেছেন, ‘শেষ কয়েকটা সপ্তাহ আমার ও গোটা পরিবারের জন্য খুব কঠিন সময় ছিল। তবে কথায় বলে, আরও কঠিন সৈনিকে পরিণত করতেই সৃষ্টিকর্তা আমাদের যুদ্ধে নামান। আজ আমার সন্তানদের জন্মদিনে আমি খুব আনন্দিত যে এই যুদ্ধে আমি জয়লাভ করতে পেরেছি এবং ওদের সেরা উপহার দিতে পেরেছি যে আমি সুস্থ হওয়ার পথে।’

পরিবার, বন্ধু ও ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন সঞ্জয়। পাশাপাশি লিখেছেন, ‘আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিচ্ছি কোকিলাবেন হাসপাতালের চিকিৎসক সেওয়ান্তি এবং তাঁর চিকিৎসক, সেবিকা ও গোটা মেডিকেল টিমকে। যাঁরা কয়েক সপ্তাহ ধরে আমার দারুণভাবে খেয়াল রেখেছেন। সত্যি আমি কৃতজ্ঞ, আমি ধন্য।’

সম্প্রতি দুবাইয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন সঞ্জয় দত্ত ও তাঁর স্ত্রী মান্যতা। তখনই ফের গুঞ্জন শুরু হয় সঞ্জয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে। কিন্তু মান্যতা এক বিবৃতিতে বলেন যে কোকিলাবেন হাসপাতালেই সঞ্জয়ের চিকিৎসা হচ্ছে। একান্তে সময় কাটাতেই দুবাই গিয়েছিলেন তাঁরা। কোভিড–১৯ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে চিকিৎসার বাকি পরিকল্পনা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন সঞ্জয়ের স্ত্রী। এর মধ্যে নিজেই যুদ্ধজয়ের কথা জানালেন সঞ্জয় দত্ত।

সঞ্জয় দত্তের যখন প্রথম ক্যানসার ধরা পড়েছিল, তখন গুঞ্জন উঠেছিল, তিনি চিকিৎসার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। পরে সঞ্জয়ের বন্ধু রাহুল জানিয়েছিলেন, ‘ভারতেই আছেন সেরা চিকিৎসকেরা। তাঁর চিকিৎসা ভারতেই হতে পারে। তাহলে দেশের বাইরে কেন যাবেন? এই মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য সঞ্জয়কে কোথাও যেতে হবে না। চিকিৎসায় তিনি ভালো সাড়া দিচ্ছেন। পরে যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।’

এর আগে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে সঞ্জয়কে। হেয়ার স্টাইলিস্ট আলিম হাকিমের ইনস্টাগ্রাম পেজে শেয়ার করা এক ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, শিগগিরই ক্যানসার থেকে মুক্তি পাব।’ ভিডিওতে সঞ্জয় দত্ত নিজের সিনেমা নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, শুটিং করার জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি। সঞ্জয় বলেন, ‘কত দিন বাইরে বেরোই না! বাড়ির বাইরে বেরোতে পারাও যে একটা আশীর্বাদ, এটা আগে কখনো বুঝিনি।’

এদিকে ক্যানসারে আক্রান্ত সঞ্জয়ের ঝুলিতে রয়েছে ছয়টি ছবি। তিনটির কাজ শেষ। বাকি তিনটি বড় বাজেটের ছবির কাজ আটকে আছে। সেসব ছবির জন্য প্রযোজকেরা সঞ্জয়ের পেছনে বিনিয়োগ করেছেন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে ‘তরবাজ’ ছবির শুটিং হয়। আফগানিস্তানের শিশু সুইসাইড বোম্বার্সদের ওপরে নির্মিত ছবিটির মুক্তি নানা কারণে আটকে গেছে। শিগগিরই নার্গিস ফখরি ও সঞ্জয় দত্ত অভিনীত এই ছবি মুক্তি দেওয়া হবে নেটফ্লিক্সে। অজয় দেবগন ও সঞ্জয় দত্ত অভিনীত ‘ভুজ: দ্য প্রাইড অব ইন্ডিয়া’ ছবিটি বেশ বড় বাজেটের। ছবিটি মুক্তি পাবে ডিজনি প্লাস হটস্টারে।

ইতিমধ্যে ‘সড়ক টু’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। আটকে থাকা ছবিগুলো হচ্ছে ‘কেজিএফ চ্যাপ্টার টু’, ‘শমসেরা’ ও ‘পৃথ্বীরাজ’। তিনটিই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অ্যাকশনধর্মী ছবি। এর মধ্যে রাভিনা ট্যান্ডনকে সঙ্গী করে সঞ্জয়ের ‘কেজিএফ চ্যাপ্টার টু’ ছবিটির মাত্র তিন দিনের শুটিং বাকি। সঞ্জয় দত্ত, রণবীর কাপুর ও বাণী কাপুর অভিনীত ‘শমসেরা’ ছবিটির এক সপ্তাহের শুটিং বাকি। আর ‘পৃথ্বীরাজ’ ছবিটির মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ হয়েছে। অবশ্য এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে অক্ষয় কুমার ও ‘বিশ্বসুন্দরী’ মানুষি ছিল্লারকে। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করার কথা সঞ্জয়ের। এই তিন ছবির ভাগ্য জড়িয়ে আছে সঞ্জয় দত্তের রোগমুক্তির সঙ্গে।