ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের মালিক যুবলীগ নেতা সাঈদ দেশ ছেড়ে এখন সিঙ্গাপুরে

0
66

দেশে যখন ‘ক্যাসিনো’র বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান ও গ্রেফতার চলছে তখনই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক। রাজধানীর ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ক্যাসিনো চালাতেন এই যুবলীগ নেতা। ক্যাসিনোতে অভিযান চালানোর পরই বেরিয়ে এসেছে তার নাম। 

গত বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস ক্লাব, মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ সিলগালা করে দেয়। কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ ছিলেন ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের যৌথ মালিক। তাছাড়াও তিনি বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) সাধারণ সম্পাদকের পদেও রয়েছেন।  

খেলার বদলে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে জুয়ার টাকায় জৌলুসের দৃশ্য ধরা পড়ার পরই তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একে একে বেরিয়ে আসছে সাঈদের টেন্ডারবাজি, জুয়ার আড্ডা, চাঁদাবাজি আর দখলবাজির বিভিন্ন অভিযোগ।

জানা যায়, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনোর মালিক হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাওসার মোল্লা এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ। অভিযানের খবরে দুজনই পালাতক। সাইদ এখন আছেন সিঙ্গাপুরে।

সাঈদ ছাড়াও ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমানসহ ঢাকার মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা ও পুরান ঢাকার আরও কয়েকজন কাউন্সিলরের খোঁজে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা।

আনিছের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গোড়ান আদর্শ স্কুলের কাছে অবৈধভাবে দখল করা জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে বনশ্রীর প্রজেক্টের ভিতরেও একাধিক জমি দখল ও বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

অভিযানের পর তদন্তে জানা যায়, পাঁচ-ছয় বছর ধরে কাউন্সিলর সাঈদ ক্যাসিনোর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। র‌্যাবের অভিযানের আগে তার ধারণা ছিল তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবেন এবং ক্লাবগুলোর কাজকর্ম নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। এই ক্লাব খেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হলেও জুয়া ছিল মুখ্য। অথচ এই ওয়ান্ডারার্স পঞ্চাশ-ষাটের দশকে ঢাকার ফুটবলে পরাশক্তি ছিল। শীর্ষ ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। বড় বড় ফুটবলার খেলতেন এই ক্লাবে।

কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পরেই গড়ে তোলেন ডিএসসিসির আওতাধীন হাটগুলোর টেন্ডার সিন্ডিকেট। যে কারণে কয়েক বছর ধরে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী হাটগুলোর ইজারা ঘুরেফিরে একই ব্যক্তির হাতে চলে যায়। এসব নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মমিনুল হক সাঈদ। যার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে এ বছর কোরবানিতে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা নেওয়ার সময়।

সর্বোচ্চ দরদাতা মনোনীত হয়ে একাই দুটি হাটের ইজারা নিয়েছিলেন তিনি। অথচ সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯ অনুযায়ী কোনো জনপ্রতিনিধি করপোরেশনের সঙ্গে এ ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কথা নয়।

প্রতিবছরই কয়েকটি হাট নামে-বেনামে তিনি ভাগ করে নেন। এবারও সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টাকার দর দিয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন বালুর মাঠ এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার দর দিয়ে কমলাপুর স্টেডিয়ামের পাশের হাটের ইজারা নেন মমিনুল হক সাঈদ।

এ ছাড়া সাঈদের নিয়ন্ত্রিত দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবেও চলে ক্যাসিনোর রমরমা বাণিজ্য। ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে মতিঝিলের আরামবাগ এলাকায় রাতের আঁধারে প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here